অনলাইন রিপোর্টার
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ঢাকাস্থ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার বেলা ১০টা ০৪ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে এই শোক জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় বলা হয়েছে, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের চিকিৎসায় আর সাড়া দিতে পারলেন না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও অসুস্থতার মধ্যেও খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শোকবার্তায় আরও উল্লেখ করেছে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু বাংলাদেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকবে।
বিগত কয়েক দশক ধরে খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কঠিন সময়ে রাজনৈতিক সাহস, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দলনেতৃত্বের জন্য তিনি সমাদৃত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবেও তার অবদান এবং নেতৃত্বের প্রশংসা হয়েছে।