অনলাইন রিপোর্টার
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে।
বৈঠকের আগে, উপদেষ্টাদের সভা শেষে বেলা ১২টার আগে রিয়াজ হামিদুল্লাহ মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। এরপর প্রায় আধঘণ্টা ধরে দুই উপদেষ্টা হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে নিরাপত্তা উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময়ে হাইকমিশনারকে ডেকে আলোচনা করি।” তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি।
নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে সোমবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডেকে আনা হয়। এর পেছনে রয়েছে সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্ককে উত্তেজিত করা কিছু ঘটনা। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি এবং ময়মনসিংহের পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
ভারতে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হিন্দুত্ববাদী তিনটি সংগঠন বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এর ফলে কেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনাও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উত্তেজিত করেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দেশ দুবার করে পরস্পরের হাইকমিশনারকে তলব করেছে। এর ফলে দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবশেষে, গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ জের ধরে একই দিনে বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা ইতিহাসে এটিই প্রথম।
এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনা এবং সমস্যার সমাধান সম্ভব। নিরাপত্তা ও কূটনীতিকদের সংলাপ ভবিষ্যতে যে কোনো উত্তেজনাকে প্রশমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শুধু হাইকমিশনারের সমন্বয়ে দুই উপদেষ্টার আলোচনা নয়, এটি ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনঃমূল্যায়নের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে এই ধরনের আলোচনা অপরিহার্য বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।