সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তার সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামীকাল বুধবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়াত নেত্রীর জানাজায় অংশগ্রহণ এবং শোক প্রকাশ করা।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী নেত্রী। তার মৃত্যুতে শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব শোকবার্তা পাঠিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার জানাজায় তার উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তার ইন্তেকালের খবরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার জানাজায় দেশি-বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তাকে একটি বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের জানাজায় অংশগ্রহণ সেই শোকের আন্তর্জাতিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে সৌজন্য ও মানবিক সম্পর্কের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।