বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সদস্যভুক্ত সব পোশাক কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশের সব সদস্যভুক্ত পোশাক শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামের (অব.) সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টার দিকে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান ও একাত্মতা প্রকাশ করে বিজিএমইএ তাদের সদস্যভুক্ত সব পোশাক শিল্প-কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি পালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শোকের এই সময়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাই যেন প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও জাতীয় শোকের এই মুহূর্তে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত এসেছে।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করছে। পোশাক শিল্পের মতো বৃহৎ খাতে এক দিনের ছুটি ঘোষণাকে এই শোকের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোশাক কারখানায় কর্মরত লাখো শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ছুটির মাধ্যমে জানাজা, দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা প্রয়াত নেত্রীর প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন। শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শোকের এই দিনে সব পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে ছুটি পালন করবে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে শোকসভা, কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পোশাক শিল্প খাতের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় শোক পালনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শোকের এই সময়ে জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।