অনলাইন রিপোর্টার
দেশজুড়ে হাড় কাঁপানো শীতের তীব্রতা বাড়ছে। দেশের ২১ জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের অন্তত ১৩টি আবহাওয়া স্টেশনে আজ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং সারাদেশে শীতের প্রভাব বিরাজ করবে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টার মধ্যে সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, দেশের মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী মানুষ ও নিম্ন আয়ের পরিবার সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন। হাড়কাঁপানো শীতে অনেকেই বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে সকালের দিকে অনেক মানুষ কাজের জন্য রাস্তায় বের হচ্ছেন। শহর ও গ্রামাঞ্চলে রিকশাচালক, দোকানদার, কৃষক এবং দিনমজুরেরা শীতের মধ্যেও নিজেদের কাজ চালাচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ শহরের আব্দুল মজিদ বলেন, “হিমেল হাওয়ায় রিকশা চালানো কঠিন হয়ে গেছে। অনেক মানুষ বাসা থেকে বের হচ্ছে না, তাই আমাদের আয় কমে গেছে।”
সদরের রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষক অবনি মন্ডল বলেন, “তীব্র শীতের কারণে জমিতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ইরি ধানের সময়, কাজের চাপ আছে, কিন্তু শীতের কারণে আমরা জমিতে যেতে পারছি না।"
সারাদেশে কুয়াশা বিরাজ করছে। ঘন কুয়াশা এবং আর্দ্রতার কারণে দেখা যাচ্ছে, দিনের শুরুতে দৃষ্টিসীমা কমে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সারাদেশে কুয়াশা ও আর্দ্রতার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখতে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকায় থাকা মানুষ এবং বাইরে কাজ করা জনসংখ্যা শীত-জনিত ঝুঁকিতে রয়েছে। বিমান চলাচল, নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগের জন্য যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দেশের মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে কৃষিকাজ, রিকশা ও দোকানপাট প্রভৃতি কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে। নদী তীরবর্তী মানুষ, নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া পরিবার এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।