ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

বসুন্ধরায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৮ পিএম

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গতকাল বুধবার রাতে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

স্বজন ও পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। পেশাগত কারণে তিনি নিয়মিত পাবনা জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম কিবরিয়া মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও হামলাকারীরা ভাঙচুর করেছে। তার দাবি, কোনো পূর্বশত্রুতা ছাড়াই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নাঈম কিবরিয়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর গাড়ির ধাক্কা লাগে। এরপর মোটরসাইকেলের চালকসহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। এরপর রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে খবর পেয়ে তাঁর খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি নাঈমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম কিবরিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নাঈম পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। প্রায় ১০ দিন আগে তিনি পাবনা থেকে ঢাকায় আসেন এবং পূর্বাচলে তাঁর বাসায় ওঠেন।

রফিকুল জানান, পাবনায় ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় নাঈম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার রাতে নাঈম তাঁর এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে বসুন্ধরা এলাকার এক নিরাপত্তাকর্মী ফোনটি ধরেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী জানান, নাঈমকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। এরপর দ্রুত গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর