নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে রঙিন মলাটের নতুন বই বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে শিশুদের। কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে। তবে একই দিনে ভিন্ন বাস্তবতা দেখা গেছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিক্ষকরা নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে বই বিতরণ করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া শুরু হয়।
বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে এবং সবাই আজই নতুন বই হাতে পাবে। তিনি বলেন, এ বছর কোনো বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। রোল ধরে শিক্ষার্থীদের ডেকে বই দেওয়া হচ্ছে। বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে, এ কারণে কিছুটা সময় লাগছে।
নতুন বই পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান জানায়, নতুন বই পেয়ে তার খুব ভালো লাগছে। বইগুলো খুব সুন্দর রঙের হওয়ায় বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধবে বলে জানায় সে। একই অনুভূতি প্রকাশ করে ফাইয়াজ মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থীও। তার ভাষায়, নতুন বই হাতে পেয়ে অনেক আনন্দ লাগছে এবং বাসায় গিয়েই সব বই পড়ার ইচ্ছা রয়েছে।
তবে প্রাথমিক স্তরের এই আনন্দের চিত্রটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায়নি। খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসরুমে গল্প করছে, কেউ আবার মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত। তারা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে সে বিষয়ে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। শুধু বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে বই বিতরণের রেজিস্টার নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় শিক্ষকদের। সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক জানান, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এলেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। অসম বণ্টনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে—এ জন্য হিসাব করে বই বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি বই দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ বিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে।
আকাশজমিন/ আরআর