ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঘুমন্ত অসহায়দের গায়ে নিজ হাতে কম্বল দিলেন মানবিক ডিসি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৪৪ পিএম

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের প্রস্তুতিতে যখন ব্যস্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামের একাংশ, ঠিক তখনই গভীর রাতে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের উদ্দেশ্যে থার্টি ফার্স্ট নাইটে ডিসি হিলের সরকারি বাসভবন থেকে বের হন তিনি। তবে শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি জেলা প্রশাসক। নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনে তাঁর নজরে পড়ে শীতার্ত দুই পথশিশু—ঝুমুর ও শাহীন। কনকনে শীতের রাতে কাঁপতে থাকা শিশু দুটিকে দেখে তিনি থমকে দাঁড়ান।

একজন আদর্শ পিতার মতো দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। পরে নিজ হাতে তাদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেন। রাতে কী খেয়েছে জানতে চাইলে ঝুমুর ও শাহীন জানায়, টাকার অভাবে সেদিন তারা কিছুই খেতে পারেনি। বিষয়টি শুনে মানবিক ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের রাতের খাবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

শুধু এই দুই পথশিশুই নয়, নগরীর মহসীন কলেজ এলাকায় ফুটপাতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল মজিদ এবং তার সাত বছর বয়সী কন্যা ইয়াসমিনের দিকেও নজর যায় সারাদেশে ‘আউট অব দ্য বক্স’ কাজের জন্য আলোচিত এই জেলা প্রশাসকের। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আসা এই বাবা-মেয়ের আশ্রয় বলতে ফুটপাতে পাতা একটি পাতলা ও পুরোনো কম্বল।

ইয়াসমিনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক তার বাবার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নোট করেন এবং স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসতে অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথা হলে আব্দুল মজিদ জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন না। মহসীন কলেজের সামনে বসে ভিক্ষা করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিনযাপন করেন। প্রতিদিন ৫০ টাকায় আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে খেতে হয়। মেয়ের মাছ বা মাংস খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। কোনো কোনো দিন কেউ বেশি সাহায্য করলে মেয়ের জন্য একটু ভালো খাবার কিনে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসবাসরত এই বাবা-মেয়ের ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন জেলা প্রশাসক। তিনি আব্দুল মজিদকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন এবং আগামী বুধবার অফিসে আসার অনুরোধ জানান।

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমার নিজেরও একটি মেয়ে আছে। শীতার্ত ইয়াসমিনকে দেখে আমার নিজের সন্তানের নিষ্পাপ মুখটি চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন পিতা হিসেবেও আমার মনে হয়েছে—এই শিশুটির জন্য কিছু করা উচিত।

পথশিশু ঝুমুর ও শাহীন সারারাত না খেয়ে থাকার বিষয়টিও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শহরের অনেক মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ করবেন, অথচ এই শহরেই কিছু শিশু একবেলা খাবার পায় না—এটা একজন মানুষ হিসেবে আমাকে কষ্ট দেয়।

শীতের এই দুঃসময়ে মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মোট ৬০০টি কম্বল বিতরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দামপাড়া গরীবউল্লাহ মাজার এলাকা, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, চকবাজার ও চেরাগী পাহাড় মোড়, লালদিঘী এলাকা এবং জেল রোডের আমানত শাহ মাজার এলাকা।

জেলা প্রশাসক নিজে ঘুরে ঘুরে অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বসতবাড়িহীন ভাসমান মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। শীতার্ত মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরাসরি উপস্থিতি এনে দেয় স্বস্তি, আস্থা ও আশার বার্তা। তিনি বলেন, সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। শীতের রাতে চট্টগ্রামের পথে পথে এই মানবিক উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে—প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক নয়, মানবিকতাও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর