সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 132
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রোববার (৪ জানুয়ারি) এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন একই রকম থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাহজাদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। অন্যদিকে তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। যদিও শনিবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা ও বাতাসের আর্দ্রতার কারণে জেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
সকালের ঘন কুয়াশা দুপুর গড়িয়ে গেলেও অনেক এলাকায় কাটছে না। সূর্যের দেখা না মেলায় শীত আরও কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও খোলা এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ খড়কুটো, কাঠ ও পুরোনো কাপড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ। রিকশাচালক ফরহাদ জানান, ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। দুপুর পর্যন্ত তার আয় হয়েছে মাত্র ১৫০ টাকা। একই অবস্থা দিনমজুর, ভ্যানচালক ও হকারদেরও। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার পড়েছে চরম সংকটে।
এদিকে শীতের প্রভাবে জেলার হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। স্বাস্থ্য বিভাগ সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, বাতাসের গতিবেগ কম থাকলেও কুয়াশা ও আর্দ্রতার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আকাশ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছে সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রেণি। দ্রুত শীত কমার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
আকাশজমিন / আরআর