রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল হোসেনের প্রার্থীতা শতকরা এক শতাংশ ভোটারের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বাতিল করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দনের হলফনামায় স্বাক্ষরের অভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, যিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এই তথ্য জানান। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা এই প্রক্রিয়ার উপর প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন আইনের আওতায় এক শতাংশ ভোটারের সঠিক তথ্য ও স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। যাচাই-বাছাইয়ে যদি তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল পাওয়া যায়, তাহলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পূর্বে এই মনোনয়ন বাতিল প্রক্রিয়া নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, দলের শৃঙ্খলা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এদিকে রূপগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা মনোনয়ন বাতিল নিয়ে উৎসুক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ বলছেন, ভোটারদের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আবার কেউ বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মনোনয়ন বাতিল করা হতে পারে। নির্বাচনী মাঠ আরও স্পষ্ট হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে আপিল প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিকে সকলের নজর থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর