অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি উদ্বোধনের মতো অবস্থায় নেওয়া যাচ্ছে না।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিমানবন্দর উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল একটি বড় ও জটিল প্রকল্প। এর নির্মাণকাজ, কারিগরি প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সময় প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করে টার্মিনাল চালু করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর জন্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করাই যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুবিধা, জনবল প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষাসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ যথাযথভাবে শেষ না হলে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিমান উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করছে। যেসব কাজ চলমান রয়েছে, সেগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পও এর বাইরে নয়। প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং মান নিয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে নজর রাখছে।
তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান বিমানবন্দর হওয়ায় এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। কোনো ধরনের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে টার্মিনাল চালু করা হবে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হলো প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। বড় প্রকল্পের উদ্বোধন বা নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সংযত অবস্থান গ্রহণ করছে।
উল্লেখ্য, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচল খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক সুবিধা সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সেই অপেক্ষা আরও কিছুদিন দীর্ঘ হচ্ছে।