সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 111
সাত কক্ষবিশিষ্ট এই মূল জমিদারবাড়িটি নির্মিত হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনে বসবাস করতেন, তবে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরীর বংশধরেরা এখনো বাড়িটিতে থাকলেও, ঐতিহাসিক এই স্থাপনার রক্ষায় কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
বিন্দ রায় চৌধুরীকে নিয়ে এলাকায় ভালো-মন্দ দুই ধরনের জনশ্রুতি রয়েছে। কেউ তাঁকে প্রজাদরদি বললেও, কারও মতে তিনি খাজনা আদায়ে ছিলেন অত্যন্ত কড়া। জনশ্রুতির মতে, তাঁর দাপটে প্রজারা জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় বা জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। তবে জনশ্রুতি যাই হোক না কেন, বাড়িটির নির্মাণশৈলীতে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। ১৮৮৭ সালে নির্মিত বাড়ির সামনের মন্দিরটিতে এখনো ঘটা করে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই পরিবারের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের এই নিদর্শনটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক খ ম রেজাউল করিম বলেন, "আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। কালের বিবর্তনে এই বাড়িটি ধ্বংসের পথে, কিন্তু তা রক্ষার জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।" ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আকাশজমিন / আরআর