টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ১২:৩০ টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুরের মরকুন টেকপাড়া এলাকায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সামান্য কোনো অভিযোগ বা তথ্য পেলেই কিছু গণমাধ্যম সত্য–মিথ্যা যাচাই না করে ঢালাওভাবে তা প্রচার করছে। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু গণমাধ্যম নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে অপপ্রচারে অংশ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন থেকে সরে এসে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনির্ভর সাংবাদিকতা চর্চা করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জামিন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর বয়স গোপন রেখে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ এবং এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীদের উদ্যোগে বিষয়টি সামনে আসার পর আদালত রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেন। পরবর্তীতে জানা গেছে পুরো ঘটনাটিই ছিল বানোয়াট।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬:১৫ টার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ–১ আদালত তাহরিমা জান্নাত সুরভীর চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে একই দিন দুপুরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–২ তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রিমান্ড আদেশের পর ছাত্র–শ্রমিক–জনতার ব্যানারে আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সুরভী অভিযোগ করেন, কোনো তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুক তার কাছে টাকা চেয়েছিলেন; টাকা না দেওয়ায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভীর রিমান্ড নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রতিকার দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয় এর করা অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।