রাজধানীতে এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের সরবরাহ ও দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ এখনো চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। বাজারে দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং সিলিন্ডারের অভাব অনেক গ্রাহককে হাহাকার করতে বাধ্য করেছে।
কাজী মিলি, রামপুরার বাসিন্দা, বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শুক্রবার সারা দিন দোকানে ফোন করেও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার পাননি। শনিবার দোকানি জানিয়েছিলেন পাশের দোকান থেকে এনে দিতে পারবেন, তবে ২ হাজার ২০০ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। এক ঘণ্টা পর সিলিন্ডার না আসায়, দোকানি অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দাবি করেন। বাধ্য হয়ে মিলি ২ হাজার ৫০০ টাকায় সিলিন্ডার আনতে বাধ্য হন।
উত্তরার বাসিন্দা হাসিনা ইসলাম বলেন, তিনি দুই মাস পর পর ৩৫ কেজির সিলিন্ডার কিনেন। এই মাসে দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৮০৯ টাকা। কিন্তু দোকানদার জানান, সিলিন্ডার নেই—বাড়তি দাম দিলে চেষ্টা করে আনবেন। মানিকদির বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রানু আক্তারও বলেন, পাইপলাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও চুলা জ্বলে না। ১২ কেজির সিলিন্ডার তিনি কিনেছেন ২ হাজার টাকায়।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহেদ জানান, ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ ১ হাজার ৪০০ টাকায় কেনা সিলিন্ডার এখন ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাকাভেদে দাম ও সরবরাহ ভিন্ন, এবং অনেক ক্ষেত্রে সিলিন্ডার পাওয়াও দুষ্কর।
এলপিজি বাজারে পরিস্থিতি
এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত এলাকার খুচরা দোকান থেকেই জোগাড় করা হয়।
সংকটের সময় দাম নিয়ে দরকষাকষি করলে দোকানদার অনেকেই জানিয়ে দেন, গ্যাস নেই।
এলাকাভেদে দাম ভিন্ন এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
গত ৪ জানুয়ারি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে বাজার নিয়ন্ত্রণে একে অপরের প্রতি অনুরোধ করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। মাঠ পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সীমিত অভিযান চালাচ্ছে।
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করছে কিনা যাচাই করা জরুরি। সাধারণত আমদানিকৃত পরিমাণ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট, কিন্তু ব্যবসায়ীরা অপ্রচলিত মজুত রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের পদক্ষেপ
মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জানান, বাজারে বাড়তি দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারি আমদানির পরিমাণ যথেষ্ট। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর কিছু অপারেটর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। যারা নিয়মিত আমদানি করছে, তাদের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।
গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা
রামপুরা: কাজী মিলি ২ হাজার ৫০০ টাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার পেয়েছেন।
উত্তরার হাসিনা ইসলাম ৩ হাজার ৮০৯ টাকায় ৩৫ কেজির সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
মানিকদির অ্যাডভোকেট রানু আক্তার পাইপলাইনের গ্যাস থাকলেও চুলা চালাতে এলপিজি ব্যবহার করছেন।
খিলগাঁওয়ের মোহাম্মদ শাহেদ বলেছেন, একই সিলিন্ডার তিন সপ্তাহে ৮০০ টাকা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
বাজারে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য আরও কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।
খুচরা বিক্রেতাদের মজুত ও অতিরিক্ত দাম আরোপের তথ্য যাচাই করা উচিত।
সরকারের এবং ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।