শীতের প্রকোপের সঙ্গে গরম পোশাকের সংকট মিলিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেক দরিদ্র পরিবারে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অভিভাবকরা তাদের ছোট শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই শীতজনিত সমস্যা—সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা উচিত। নইলে তীব্র শীতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শীত ও কুয়াশার কারণে গ্রামীণ এলাকায় কর্মজীবন প্রায় অচল হয়ে গেছে। স্কুলেও শিশুদের উপস্থিতি কমে গেছে। বিশেষ করে দূরের এলাকায় বসবাসরত দরিদ্ররা রাতে গরম থাকার জন্য আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা কমানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওগুলো শীতবস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে সংখ্যাগত ও কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা থাকায় ত্রাণ যথাযথভাবে পৌঁছাতে পারছে না। সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশু ও বৃদ্ধদের শীতজনিত সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।
শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা, সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয় অপরিহার্য। নওগাঁর মতো এলাকায় দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থায় থাকা মানুষদের সহায়তা ছাড়া তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা কঠিন।