ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ সেনার অভিযান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ জন সেনা অংশ নিয়েছিল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হেগসেথ জানিয়েছেন, এই গোপন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দক্ষ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। ভার্জিনিয়ার একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নৌবাহিনীর নতুন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘পিসিইউ জন এফ. কেনেডি’-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাদুরোকে নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী আটক করা হয়েছে। এক জনও মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।”

এই অভিযান চালাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের এলিট ইউনিট এবং এফবিআই-এর একটি চৌকস দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। হেগসেথ বলেন, “মাদুরো এমন কিছু অসাধারণ আমেরিকানের সঙ্গে সাক্ষাৎ পেলেন যারা নাইট-ভিশন গগলস পরে তাঁর ঘরে ঢুকেছিলেন। অভিযানের সময় মাদুরো বা তাঁর নিরাপত্তা দল এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযানের তিন মিনিট আগে পর্যন্ত মাদুরো কিছুই জানতেন না। অভিযানের সময় মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বিমানের শব্দ শুনলেও বুঝতে পারেননি যে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স তাদের ধরে নেয়ার জন্য উপস্থিত।

প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকারিতা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেমন কাজে আসে নি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে কোনো সেনা প্রাণহানি হয়নি, যা পেন্টাগনের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা শক্তি এবং উচ্চতর পরিকল্পনার দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য নির্বাচন করা সেনারা দ্রুত, নিখুঁত ও গোপনীয়ভাবে কাজ করেছেন। হামলার সময় কারাকাসে সাধারণ জনগণ প্রায় কিছুই বুঝতে পারেনি। এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ‘যুগান্তকারী কৌশলগত সফলতা’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাচ্ছে। অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর