ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

বিমানের টিকিট জালিয়াতি: ১০ চক্র শনাক্ত, কঠোর ব্যবস্থা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫৭ পিএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে টিকিট জালিয়াতি ও নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমে জড়িত ১০টি চক্র শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বিমানের নিজস্ব তদন্তে যাত্রীদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে টিকিট ইস্যু, কয়েক দফা হাতবদল এবং বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “টিকিট জালিয়াতি চক্রের সন্ধান মেলায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিযুক্তদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি প্রচলিত আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিমানের ভেতরে অন্য কেউ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি কাজ করছে।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রাজস্ব শাখার ডেপুটি ম্যানেজার সাজ্জাদুল ইসলাম ২৩ ডিসেম্বর একটি চিঠিতে জানিয়ে বলেন, “বিমানের রেভিনিউ ইন্টিগ্রিটি ও আইবিই রেভিনিউ শাখার নিয়মিত মনিটরিংয়ে টিকিট ইস্যু ও পেমেন্ট প্যাটার্নে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। এরপর একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, কিছু ট্রাভেল এজেন্ট বিমানের আইটি সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অননুমোদিতভাবে টিকিট ইস্যু করছিল। এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় টিকিট সংগ্রহ থেকে চূড়ান্ত ইস্যু পর্যন্ত তিন থেকে চারবার হাতবদল হতো, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতো।”

তদন্তে জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা হিসেবে ‘বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজ’-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সহযোগী সাব-এজেন্ট, গাইবান্ধাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, ইডেন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং ক্রিয়েটিভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস-এর সঙ্গে বিমানের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। মোট চারটি ট্রাভেল এজেন্সি ও ছয় ব্যক্তিসহ এই সংগঠিত চক্রের আইএটিএ আইডি ও ইনভেন্টরি অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিমানের রেভিনিউ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের জালিয়াতি সংস্থার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুনামও ক্ষুণ্ণ করে। তাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, সময়মতো এই জালিয়াতি ধরা না পড়লে বিমান বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তো।

বিমান কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, চক্রের সনাক্তকরণের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধে বিমানের অভ্যন্তরীণ আইটি সিস্টেম ও রেভিনিউ মনিটরিং শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর