স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) অভ্যুত্থানের এই চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট পল হেনরি সানদাওগো দামিবার অনুসারীরা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী আগেভাগেই বিষয়টি জানতে পারায় বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পরিকল্পনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার রাতেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দামিবার ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তিও রয়েছেন। সরকারিভাবে তাকে এই অভ্যুত্থান চেষ্টার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার একাধিক প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে সরকার।
পল হেনরি সানদাওগো দামিবা ২০২২ সালে স্বল্প সময়ের জন্য বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওই বছরই ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জঙ্গি হামলা মোকাবিলাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে।
সেন্ট্রাল নিউজ সাউথ আফ্রিকা জানিয়েছে, সঠিক সময়ের গোয়েন্দা তথ্য এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই অভ্যুত্থানের এই চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আগেই ষড়যন্ত্রকারীদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম সি৩৬০ জানিয়েছে, এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনার সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় পক্ষের লোকজন জড়িত ছিল। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক অবকাঠামো দখল করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, নিরাপত্তা স্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা ছিল।
বুরকিনা ফাসোর সরকার দাবি করেছে, গ্রেপ্তারকৃত মাস্টারমাইন্ডের মোবাইল ফোনে অভ্যুত্থান পরিকল্পনা, যোগাযোগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের তালিকা পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে অভ্যুত্থান চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের হাজার হাজার সমর্থক দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন। তারা রাস্তায় নেমে সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং যেকোনো ধরনের ক্ষমতা দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এই অবস্থান ও আন্দোলন ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
সমর্থকদের দাবি, বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার যে কোনো প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তারা বলেন, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দেশকে রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বুরকিনা ফাসোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। এই নতুন অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষমতার ভেতরের দ্বন্দ্ব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সরকার বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষায় যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করা হবে। অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সূত্র: নিউজ ঘানা