নিহত রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। কপালিয়া বাজারে তার একটি বরফকল ছিল, যা তিনি গত দুই বছর ধরে পরিচালনা করে আসছিলেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত রানা প্রতাপকে তার বরফকল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাজারে অবস্থিত একটি ক্লিনিকের পাশের গলির মুখে নিয়ে গিয়ে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, একটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা কপালিয়া বাজারে আসে। তারা রানাকে বরফকল থেকে ডেকে পাশের একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা খুব কাছ থেকে রানার মাথায় কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এরপর তারা মণিরামপুরের দিকে যাওয়ার রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে রানার মরদেহের পাশে সাতটি গুলির খোসা পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত রানা প্রতাপের নামে যশোরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ছিল। তিনি একসময় চরমপন্থি দলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া, নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, নিহত রানা প্রতাপ তাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। তিনি জানান, একসময় রানার নামে মামলা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি সবগুলো মামলায় খালাস পেয়েছেন। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রানা প্রতাপ চরমপন্থি গ্রুপের সদস্য ছিলেন। কপালিয়ায় তার একটি বরফকল ছিল এবং তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন। নানা দ্বন্দ্বে তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে তিনি নিজ এলাকায় থাকতেন না এবং কপালিয়া এলাকায় তার অবাধ বিচরণ ছিল।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।