জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এই সফর শুধু একটি কবর জিয়ারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি কক্সবাজার জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বার্তা বহন করবে। তারা মনে করছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গতি আনবে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে তারেক রহমান কক্সবাজারের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন। এটি আমাদের জেলার বিএনপি পরিবারের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, এই সফরের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা নতুন করে অনুপ্রাণিত হবে।’
কক্সবাজার সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য সফরসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এই সফরে তারেক রহমান যেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে উখিয়ায় গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী জাগির হোসেনের পরিবারের খোঁজ নেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অনেক নেতাকর্মী। উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আহমদ শাকিল বলেন, ‘বিএনপি পাগল কর্মী জাগির হোসেন স্বৈরাচার সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন। আশা করি আমাদের নেতা তারেক রহমান শহীদ জাগির হোসেনের দুই এতিম সন্তানসহ তার পরিবারের খোঁজ নেবেন এবং তার কবর জিয়ারতে উখিয়ায় আসবেন। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হবে।’
এদিকে তারেক রহমানের সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি তিনি ১৯ বছর পর বগুড়ায় যাবেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে হিসেবে বগুড়ার মানুষের সঙ্গে তার এই পুনর্মিলন ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বগুড়া সফরের পরদিন, ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরে যাবেন এবং সেখানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, এসব সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করছেন, যা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ওই দিন রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখো মানুষ জড়ো হয়। এই অভ্যর্থনাকে বিএনপির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দ্বিমুখী সংঘর্ষে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং নগরীর চকবাজার এলাকার একটি মেসে বসবাস করতেন। ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন তার হত্যার বিচার দাবি করে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে। তারেক রহমানের কবর জিয়ারতের সিদ্ধান্তকে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
কক্সবাজার সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তাও দিতে চান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এই সফর বিএনপির রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।