মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানে বিশেষ এক অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজ্যের সেরেমবান ও নিলাই এলাকার ১৩টি স্থানে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানের সময় ৭৭ জন অবৈধ অভিবাসী আটক হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি।
ইমিগ্রেশন নেগেরি সেম্বিলানের পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানিয়েছেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৩৯৫ জন বিদেশিকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সী ৭৭ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৭১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী রয়েছেন।
আটকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার তিনজন নারী ও একজন পুরুষ, পাকিস্তানের ১০ জন পুরুষ, বাংলাদেশের ২৬ জন পুরুষ, থাইল্যান্ডের পাঁচজন পুরুষ ও একজন নারী, মিয়ানমারের তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী এবং ভারতের ২৬ জন পুরুষ রয়েছেন।
অভিযানের সময় নিলাই এলাকায় অবস্থিত একটি সাবান উৎপাদন কারখানা থেকে সর্বাধিক ৫৫ জন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সব পথ অবরুদ্ধ থাকায় কেউ পালাতে পারেনি।
কেনিথ তান জানান, জনসাধারণের অভিযোগ ও এক সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থান এবং অন্যান্য অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত।
আটক সবাইকে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য নেগেরি সেম্বিলানের লেংগেং অভিবাসন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ বা আশ্রয় প্রদানে সহযোগিতা করা যেকোনো ব্যক্তি বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
কেনিথ তান আই কিয়াং সতর্ক করেছেন, যারা অবৈধ অভিবাসী নিয়োগ বা আশ্রয় দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জনসাধারণকে তথ্য বা অভিযোগ জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই অভিযান মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের নিয়মিত অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও শ্রম বাজারের সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের শ্রমিক ও অভিবাসীর জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য, তবে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে পালন করা হয়। এই ধরনের অভিযান অভিবাসন আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।