গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে একটি পোশাক কারখানায় হামলা ও অবরোধের ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ খাইরুজ্জামান উজ্জল (২৬), মোঃ মেহেদী হাসান নাঈম (২০), মোঃ আরমান আহমেদ (৩৫), মোঃ ফরহাদ হোসেন (১৯), মোঃ মনির হোসেন (২৮) ও মোঃ রুবেল রানা (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘গ্রামীন ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড’ কারখানায় অভিযুক্তরা অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া কাজ বন্ধ করে দেন। তারা বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবিতে সংঘবদ্ধ হয়ে স্টিলের পাইপ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
বেলা ১১টার দিকে কারখানার সিনিয়র অফিসার (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার প্রধান সহকারী মেডিকেল অফিসার আলিমুজ্জামান ও সিনিয়র ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মোঃ শহিদুল ইসলামকে মারধর করেন। এসময় লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হয়। এতে বাদীর ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয়, আর আলিমুজ্জামানও মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে অভিযুক্তরা কারখানার কাটিং ক্যাট রুমে অবৈধভাবে তাদের আটক রাখেন এবং মূল ফটকে তালা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে বন্দি করে রাখেন। ঘটনা নিয়ে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং আহতদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এমন ধরনের সহিংসতা পুনরায় ঘটানো এড়িয়ে চলার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় কারখানার কর্মক্ষেত্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও এটি আইনগত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
এই ঘটনায় শ্রমিক সংঘর্ষ এবং কারখানার নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্ব পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।