ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে আজ ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ, জমায়েত হতে পারে লাখো মানুষ ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেনা কমান্ডারদের বড় নির্দেশ মোজতবা খামেনির তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা খুলনায় রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় আতঙ্ক

২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ৬০ বছর ধরে সেতুর অভাব


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫১ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আগুরিয়া এলাকায় যমুনা সংযুক্ত আগুরিয়া নদীর ওপর দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে স্থায়ী সেতুর অভাবে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নদীর পারাপার করার একমাত্র ভরসা বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান, তবে ভোট শেষ হওয়ার পর আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এর ফলে কৃষকদের পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুল যাত্রা এবং অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

৬০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ এবং কৃষক সোনাউল্লাহর মতো বহু মানুষ এই দুর্ভোগের শিকার। স্থানীয় মাঝি হযরত আলী প্রতি বছর ৩৫–৪০ হাজার টাকা খরচ করে বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করেন। গ্রামবাসীরা পারাপারের বিনিময়ে তাকে ধান প্রদান করেন।

রাজাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাবিব খাঁন জানান, বহুবার আবেদন করেও কাজ হয়নি। তবে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান এবং জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন নৌকা এবং বাঁশের সাঁকোর ওপর যাতায়াত করা বিপজ্জনক। বর্ষার সময় সাঁকো ভেঙে যেতে পারে, যা গ্রামবাসীর জন্য জীবনঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর অভাবে কৃষি পণ্য শহরে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, শিক্ষার্থীরা স্কুলে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

গ্রামবাসীর অনেকেই বলেন, দীর্ঘ ৬ দশক ধরে তারা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি শুনলেও কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেতু নির্মাণের জন্য আবেদন, স্মারক এবং স্থানীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু কাজ অগ্রগতির কোন চিহ্ন দেখা যায়নি।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। প্রস্তাবিত সেতুর জন্য প্রকৌশলীরা জরিপ সম্পন্ন করেছেন। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রকল্প অনুমোদনের পর সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। গ্রামবাসী আশা করছেন, শীঘ্রই প্রকল্প অনুমোদন হলে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে।

সেতু নির্মাণ না হলে, গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থা বরাবরের মতো ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া তাদের জনজীবনের দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর