গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর দুর্লভপুর পূর্বপাড়া গ্রামের রহিমা খাতুনের জীবন এক করুণ বাস্তবতা। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত রহিমা খাতুনকে বাঁচাতে দুই পা কেটে দিতে হয়েছে। সেই সময় রহিমার ছোট ছেলে আরিফুল হাসান মা-এর যত্নে এতোটুকু সঙ্কোচ করেননি, তবে এতে তার নিজের জীবনেও দারুণ ক্ষতি হয়েছে।
মায়ের সেবা করতে গিয়ে আরিফুল চাকরি হারিয়েছেন এবং সংসার ভেঙে গেছে। স্ত্রী ও সন্তানও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে আরিফুল ও রহিমা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে তাদের দিনরাত্রি কষ্টের মধ্যে কাটছে।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজে রহিমা খাতুনের করুণ অবস্থা প্রচারিত হলে বিষয়টি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নজরে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শফিকুল ইসলাম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক ও প্রতিনিধি দল রহিমার বাড়িতে পৌঁছে শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন।
এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে শীতের কম্বল, জরুরি জীবন রক্ষাকারী ঔষধ এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রতিনিধি দল আশ্বাস দেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত সরকারি সহায়তা এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
ছেলে আরিফুল হাসান জানান, “মা গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের দুটি পা কেটে দিতে হয়। মা-এর পাশে থেকে সেবা করতে গিয়ে আমি চাকরি হারাই। শেষমেষ অভাবের তাড়নায় পরিবারও চলে যায়। এখন অন্যের সাহায্য এবং খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে দিন পার করছি।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রহিমা খাতুন ও তার ছেলের এই করুণ অবস্থার প্রতি শ্রীপুর স্বাস্থ্য বিভাগের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা আরও বলছেন, সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের উচিত এমন ত্যাগী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে রহিমা খাতুনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঔষধ এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন।
এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ এই ধরনের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এবং আরিফুলের মতো ত্যাগী সন্তানের পাশে দাঁড়াবে।
আকাশজমিন / আরআর