ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চাঁদপুরে পাঠ্যবই সংকট, পড়াশোনায় ভোগান্তি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:২১ পিএম

চাঁদপুর সংবাদদাতা 

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে সাধারণত নতুন বইয়ের গন্ধে মুখর হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বছরের পাঠদান কার্যক্রম। তবে চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চাঁদপুর জেলার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই চিরচেনা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো অনেক শিক্ষার্থী সরকারি নতুন বই পায়নি, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

জেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদরাসায় বই সংগ্রহ করতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছে বহু শিক্ষার্থী। কোথাও কোথাও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চার বা পাঁচটি বই পেলেও অষ্টম শ্রেণি এবং ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরা এখনো কোনো বই পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক শিক্ষার্থী জানায়, নবম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও এখনো পাঠ্যবই না পাওয়ায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হলেও বইয়ের অভাবে শিক্ষকরা পূর্ণাঙ্গভাবে ক্লাস নিতে পারছেন না।

শিক্ষার্থীদের মতে, বই না থাকায় বাড়িতে পড়াশোনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে, বন্ধুদের কাছ থেকে পুরোনো বই ধার নিয়ে কিংবা নোট দেখে কোনোমতে পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। এতে পাঠে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নতুন বই পাওয়ার যে আনন্দ থাকে, তা থেকে এবার বঞ্চিত হচ্ছে তারা।

শিক্ষার্থীদের মতোই উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকরাও। অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে না থাকলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে। পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, বই সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিশুদের শিক্ষা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা দ্রুত বই সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নতুন বই পাওয়া শিশুদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সেই আনন্দ না থাকলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। তারা চান, যত দ্রুত সম্ভব সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হোক, যাতে পড়াশোনার স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বাকি বইগুলো পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি বলেন, পাঠ্যবই সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অনলাইন থেকে পাঠ্যবই ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলায় মাধ্যমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা রয়েছে ৩১ লাখ ৯১ হাজার কপি। এর বিপরীতে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫ লাখ ৩৭ হাজার কপি, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনও অর্ধেকের বেশি বই জেলায় পৌঁছায়নি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই সরবরাহ নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বই বিতরণ সম্পন্ন করা গেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ও পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারবে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সংকট কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর