ক্রীড়া ডেস্ক
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) দ্বিতীয় দফা চিঠিও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তবে হুট করে এই জটিল সমস্যার সমাধান বের করা তার জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসিকে দেওয়া প্রথম চিঠিতে বিসিবি জানিয়েছিল, তারা ভারতে খেলতে আগ্রহী নয় এবং তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই চিঠিকে মূলত যাতায়াত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু বিসিবির দ্বিতীয় চিঠি পুরো পরিস্থিতিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
পরবর্তী চিঠিতে বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিষয়টি এখন আর কেবল নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন। এই অনুভূতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে আইপিএল থেকে হঠাৎ করে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা। বিসিবির মতে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ এখন আর শুধু নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। তারা দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্য একেবারে ‘ম্যান-টু-ম্যান’ সিকিউরিটি বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে। বার্তাটি স্পষ্ট—এটি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্ন। এই অবস্থানই জয় শাহর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি এখনো বিসিবির দ্বিতীয় চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। জয় শাহর প্রথম কাজ হবে বিসিসিআই এবং আইসিসির অপারেশন টিমের সঙ্গে বসে টুর্নামেন্টের বর্তমান নিরাপত্তা পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করা। কোথায় বাংলাদেশ নিজেকে উপেক্ষিত মনে করছে, কোন কারণে আগের আশ্বাসগুলো তাদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি—সেসব বিষয় চিহ্নিত করাই হবে আলোচনার মূল লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসির আগের বার্তাগুলো কেবল দাপ্তরিক ভাষায় সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেখানে সহমর্মিতার ঘাটতি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও হবে জয় শাহকে। তবে এরপরও সমাধান সহজ হবে না বলেই মনে করছে এনডিটিভি।
বিশ্বকাপের কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই টুর্নামেন্টে এসেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গেলে আইসিসিকে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। এমনকি আইসিসি বোর্ডে ভোটাভুটি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যে বর্তমান পরিকল্পনার বিরোধিতা করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। তার মতে, বর্তমান অবস্থায় ভারতে গিয়ে খেললে জাতীয় সম্মানে আঘাত লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে জয় শাহ এখন ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রভাবশালী কর্তা হিসেবে নয়, বরং একজন নিরপেক্ষ আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে পরিস্থিতি সামলাতে হবে। উত্তেজনা প্রশমিত করে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আকাশজমিন / আরআর