ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে কারা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:২৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের চলমান অস্থিরতা, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিরতার পেছনে একটি বিশাল, সুসংগঠিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা’ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা ‘সিটিজেন ল্যাব’ এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের পেছনে ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়ন রয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ভেতরে ও বাইরে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোপন ডিজিটাল অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে ঘিরে রাজতন্ত্রপন্থী জনমত তৈরি করা। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট, স্বয়ংক্রিয় বট নেটওয়ার্ক এবং এআই-নির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিটিজেন ল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের সময় এই নেটওয়ার্কটি হঠাৎ করে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। গত বছর তেহরানের এভিন কারাগারে হামলার সময় এই ডিজিটাল চক্রটির কার্যক্রম ছিল সবচেয়ে তীব্র। ইরানি গণমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক খবর প্রকাশের আগেই হাজার হাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে বিস্ফোরণের খবর, ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেগুলোর বড় অংশই ভুয়া বা কৃত্রিমভাবে তৈরি ‘ডিপফেক’ কনটেন্ট বলে প্রমাণিত হয়।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণ জনগণকে ব্যাংক লুট, সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং জেল ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উগ্র ও সহিংস পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।

২০২৩ সালে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারণাকে নতুন মাত্রা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সফরের সময় ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে প্রকাশ্যে ‘ইরানের যুবরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাহলভিকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরার প্রচারণা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

সিটিজেন ল্যাবের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ডিজিটাল প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিস্ময়কর মিল রয়েছে। যখনই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে, ঠিক তখনই ইরানের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার মতো অনলাইন কার্যক্রম তীব্র হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। যদিও ইসরায়েল সরকার সরাসরি দায় স্বীকার করেনি, তবে সিটিজেন ল্যাবের বিশ্লেষণ বলছে—ইসরায়েল সরকার বা তাদের ঘনিষ্ঠ কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই ডিজিটাল অপারেশন পরিচালনা করছে।

গবেষক রাজ জিম্মতের মতে, এই প্রকাশ্য বা পরোক্ষ বিদেশি সমর্থন উল্টো ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অবস্থানকেই শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির এই উসকানি ইরানিদের মধ্যে পুরনো স্বৈরাচারী শাসনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে।

গবেষকেরা উল্লেখ করেন, যদিও রেজা পাহলভি বিদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলছেন, তবে অনেক ইরানি তাকে তার বাবার স্বৈরাচারী শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখেন। ফলে এই প্রচারণা ইরানের ভেতরে বিভক্তি বাড়ালেও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারছে না।

সিটিজেন ল্যাব সতর্ক করে বলেছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এ ধরনের গোপন ও অনৈতিক ডিজিটাল ক্যাম্পেইন শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার গুরুতর লঙ্ঘন বলেও মত দিয়েছেন গবেষকেরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর