চুয়াডাঙ্গা জেলায় হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শীতার্ত মানুষরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। জেলার উপর দিয়ে টানা ৮ দিনের মত শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই তীব্র শীতে জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
শহরের পাখিভ্যান চালক শহিদুল হক বলেন, “তীব্র শীতে বাতাসের কারণে ভ্যান চালানো খুবই কষ্টকর। যাত্রী সংখ্যা খুব কম। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে রাস্তায় লোকজনও কম দেখা যাচ্ছে।”
শহরের বড় বাজারে কাজের সন্ধানে থাকা দিনমজুরেরা জানিয়েছেন, কনকনে শীত পড়ছে এবং বাতাস আরও শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারপরও কাজ থেমে নেই। বাধ্য হয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। শীতে কাজ না পাওয়ায় বাড়ি ফিরে অনেকেরই দিনের আয় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুল হক বলেন, “সকাল ৮টার মধ্যে অফিসের উদ্দেশে বের হতে হয়। প্রচণ্ড শীতের কারণে পায়ে হেঁটে যাচ্ছি। শরীর কিছুটা গরম থাকে, কিন্তু হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে যাই।”
মামুন নামে একজন হোটেল কর্মচারী বলেন, “সকালে নাস্তার সময় হোটেলে চাপ থাকে। ফজরের আজানের পর থেকেই কাজের চাপ শুরু হয়। পানি ধরলে মনে হয় হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে, আঙুলগুলো নাড়ানো যাচ্ছে না। তারপরও কাজ করছি। ঠান্ডার ভয় দেখালে মালিক মজুরি দেবে না।”
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, “জেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে এবং এটি আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শৈত্যপ্রবাহের কারণে সকাল এবং রাতের তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। তাই সবাইকে শীতের প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।”
জেলার স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো শীতার্তদের জন্য ত্রাণ ও খাবারের ব্যবস্থা জোরদার করেছে। শীতের তীব্রতা কিছুটা কমাতে আগুন জ্বালানো এবং উষ্ণ কাপড় বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শীতের এই অবস্থায় বিশেষভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সবাইকে বাড়ির ভিতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার এই শৈত্যপ্রবাহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করেছে। এর মধ্যেও কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষদের জন্য আবহাওয়া, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।