ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে আজ ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ, জমায়েত হতে পারে লাখো মানুষ ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেনা কমান্ডারদের বড় নির্দেশ মোজতবা খামেনির তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা খুলনায় রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় আতঙ্ক

সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ শিশু আইসিইউতে


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:৪৬ পিএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শাখায় চিকিৎসাধীন ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনান। বাইরে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা; কেউ প্রার্থনায় ব্যস্ত, কেউ কাঁদছেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুর অবস্থা জানতে তারা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে শিশু হুজাইফা আহত হন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলি তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে। অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তবে গুলি বের করা হয়নি, কারণ তা ঝুঁকিপূর্ণ। মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে।

হুজাইফার চাচা মোহাম্মদ এরশাদ জানিয়েছেন, শনিবার রাতে গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছিল। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে হুজাইফা খেলতে বের হয়। সড়কের কাছাকাছি গিয়ে আবার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হয় এবং একটি গুলি তার মুখের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে যায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, ভোর চারটা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার চালানো হয়েছে। যদিও গুলি বের করা হয়নি, মস্তিষ্কের চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। শিশুর জীবন রক্ষার জন্য তা জরুরি এবং বর্তমানে তার অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থানে সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে। স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপার থেকে ছোড়া গুলি টেকনাফের গ্রামগুলোতে আছড়ে পড়ছে, লোকজনের ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে ক্ষতি হচ্ছে।

হুজাইফার পরিবারের একজন শওকত আলী হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। তাদের আশা, চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা শিশুটিকে রক্ষা করতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই প্রার্থনা করছি, আল্লাহ যেন হুজাইফাকে সুস্থ রাখেন।”

আইসিইউতে অপেক্ষা করা স্বজনরা জানিয়েছেন, তাদের উৎকণ্ঠা সহ্য করা কঠিন। শিশুটির ছোট দেহে জীবন ও মৃত্যু একসাথে লড়ছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিবারকে নিয়মিত অবস্থা জানান এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষায় তৎপর।

পরিস্থিতি এমন যে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা সংকট এবং সশস্ত্র সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষও আতঙ্কে জীবন কাটাচ্ছে। হুজাইফার ঘটনা আবারও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সংকটের প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর