গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
প্রকৃতির অপার সম্ভারাময় বাংলাদেশ। দেশের পথে-ঘাটে, দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠে যে দিকে তাকানো যায় সেখানেই চোখে পড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। তেমনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর নতুন ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদী পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হয়ে ওঠে। হাজার হাজার অতিথি পাখি এখানে বসবাস করে। নদীর মাঝখানে দল বেঁধে বসে থাকে, আবার কখনো আকাশ পানে উড়ে যায়। এককথায়, পাখিদের মুক্ত বিচরণের নিরাপদ স্থান হয়েছে উজানচর নতুন ব্রিজের পদ্মা নদী এলাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলবদ্ধ পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আর নদীর মাঝ বরাবর পানকৌড়ির ডুবোডুবির দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। পাখিরা মনের আনন্দে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় উড়ে বেড়ায়, কোনো বাধা ছাড়াই মুক্ত আকাশে বিচরণ করে।
নতুন ব্রিজ বটতলা রায় স্টোরের মালিক বিপ্লব কুমার রায় জানান, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নতুন ব্রিজের পদ্মা নদী এক সময় এই অঞ্চলের প্রধান নদী ছিল, যা এখন ‘মরা পদ্মা’ নামে পরিচিত। কয়েক বছর আগেও নদীতে প্রচুর অতিথি পাখির আনাগোনা ছিল। এখন শীতকালে অতিথি পাখিদের এ অঞ্চল জুড়ে দেখা যায়। তিনি আরো জানান, নদীর বুক জুড়ে বিচরণ করে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। যদিও কচুরিপানার প্রভাব থেকে অনেক পাখি অন্যত্র চলে যায়। নদীর বুকে বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, ডাহুক ও বন পাতিহাস চোখে পড়ে। এ যেনো পাখিদের স্বর্গরাজ্য।
উজানচর নতুন ব্রিজ এলাকার স্কুল শিক্ষক সুজিত কুমার রায় বলেন, নদীতে এখন বেশি পানি নেই, তবুও অতিথি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। পাখিরা ভয়-ডরহীন মনের আনন্দে নদীর এপার-ওপার উড়ে বেড়ায়। কয়েক বছর আগে যখন নদী ভরা ছিল, তখন লক্ষ লক্ষ পাখি বসত করত। বর্তমানে শীতকালে দেড় মাস পাখিদের দেখা মেলে। বিকেল ও সন্ধ্যায় নতুন ব্রিজ এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে অতিথি পাখি দেখার জন্য। এখানে কেউ পাখি ধরে না বা তাড়া করে না, তাই পাখিরা শান্তিতে বিচরণ করে।
কাতার প্রবাসী কেএম সোহেল মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে শীতকালে গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন। গোয়ালন্দের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল বেতকা-রাখালগাছি ও উজানচর নতুন ব্রিজ পদ্মা নদীর দৃশ্য মনোরম ও শান্তিদায়ক। এখানে হাজার হাজার পাখির অবাধ বিচরণ, কিচিরমিচির শব্দ ও পানকৌড়ির ডুবোডুবির দৃশ্য সত্যিই এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো পাখির মুক্ত বিচরণে কোনো বাধা নেই, তারা মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়।
আকাশজমিন /
আরআর