সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই বিক্ষোভকারীদের বুধবার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের মুখে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তেহরান সরকার এই ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার তাদের ৪৭ বছরের শাসনামলে এ ধরনের ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের মুখে কখনো পড়েনি। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রায় সব প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিদিনই এর তীব্রতা বাড়ছে।
এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত অবমূল্যায়নের কারণে ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
ধর্মঘটের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের শহর ও গ্রামগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। সরকারি দপ্তর, বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২৮ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি একাধিকবার এই হুমকি দিয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা আপাতত কম।
সূত্র : এএফপি