ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একনেক সভায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন বাহিনী যাত্রা শুরু একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা অপরাধের ধরন পাল্টালেও আধুনিকায়ন হয়নি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে: মাহদী আমিন সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী

নিজস্ব ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া আনছে ইরান


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:২৭ পিএম

ইরান সরকারকে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে কার্যত স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার পথে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা। নতুন এই ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকরা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে না; বরং সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত সীমিত একটি গোষ্ঠীই নিয়ন্ত্রিতভাবে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে।

ফিল্টারওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার যাচাই–বাছাই করে যাদের ‘বিশেষ ছাড়পত্র’ দেবে, শুধুমাত্র তারাই আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য চালু থাকবে সম্পূর্ণ দেশীয় ‘জাতীয় ইন্টারনেট’, যা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন। ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি জানিয়েছেন, এই জাতীয় ইন্টারনেট মূলত সরকার নিয়ন্ত্রিত সমান্তরাল নেটওয়ার্ক। এতে কেবল সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ ও দেশীয় স্ট্রিমিং সেবা থাকবে।

ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এই নজরদারি ও সেন্সরশিপ ব্যবস্থা তৈরিতে চীনা প্রযুক্তি ও হুয়াওয়ের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি ইন্টারনেট ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লক করতে সক্ষম। ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইতিমধ্যেই ইতিহাসের দীর্ঘতমগুলোর একটি। নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ কার্যকর হয়নি। এটি ২০১১ সালের মিসরের তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের সময়কার শাটডাউনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানি নববর্ষ নওরোজের সময়, ২০ মার্চ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে পারে। ডিজিটাল অধিকার নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সাবেক কর্মকর্তা দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, ইরান স্থায়ীভাবে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং গত দেড় দশকের পরিকল্পনার চূড়ান্ত ধাপ। ২০০৯ সালের বিক্ষোভ চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ করা হলে সরকার বুঝেছিল, ব্ল্যাকআউট অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল। ২০১২ সালে সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেস গঠন ও দেশীয় ইন্টারনেট অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়।

পরবর্তী সময়ে ‘হোয়াইটলিস্টিং’ ব্যবস্থা চালু হয়, যেখানে ফেসবুক, টুইটার ও গুগল বন্ধ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবা চালু রাখা হয়। এই ব্যবস্থাও চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিডলবক্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ভিপিএনসহ নির্দিষ্ট টুল ব্লক করা সম্ভব হচ্ছে।

২০১৫ সালে কিছু গবেষক পরীক্ষামূলকভাবে বিটকয়েন ব্যবহার করে ইরানি সার্ভার পরীক্ষা করেন, যেখানে একটি অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট তৈরি হয়েছে, যা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। বিক্ষোভকারীদের শেষ ভরসা ছিল ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তবে ২০২৫ সালে পাস হওয়া এক আইনে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা ‘ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তেহরান রাশিয়া ও চীনের জ্যামার ব্যবহার করে স্টারলিংকের সিগন্যালও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর