আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় নিউ সাউথ ওয়েলসে (NSW) প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানী সিডনিতে শনিবার গভীর রাতে নারাবিন এলাকার নিচু শহরতলিতে বিপজ্জনক বন্যা দেখা দেয়। এখানকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির ফলে রাজ্যজুড়ে ১,৪০০টির বেশি জরুরি ঘটনার সাড়া দিতে হয়েছে উদ্ধারকর্মীদের। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বন্যার পানিতে গাড়ি চলাচলের কারণে তৈরি পরিস্থিতি।
রাজ্য জরুরি পরিষেবার সহকারী কমিশনার সোনিয়া অয়স্টন এক বিবৃতিতে জানান, আকস্মিক বন্যার কারণে বহু সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু রাস্তা আরও কিছু সময় বন্ধ থাকতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জনসাধারণ যেন সড়কপথে বের না হন এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিশ্চিত করেন। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় সকালে সিডনির উত্তর প্রান্তে প্রায় ৭২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন জানিয়েছে, শনিবার সিডনি থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ওলংগংয়ের কাছে বৈরী আবহাওয়ার সময় একটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আঘাত পেয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এটি বন্যার সঙ্গে যুক্ত দুর্ঘটনার একটি দুঃখজনক ঘটনা।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, সিডনির দক্ষিণাঞ্চলে রবিবার বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জরুরি সেবা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে উদ্ধার ও উদ্ধারকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তারা সকলকে সতর্ক থাকার জন্য বারবার নির্দেশ দিচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরি কর্মী।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। যানজট, বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্থানীয় কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এই বন্যার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের প্রতি বারবার সতর্কতা জারি করা হয়েছে যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যায়। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানেই অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আবহাওয়ার উন্নতি হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, যা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কাজে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আকাশজমিন / আরআর