সাভারে পরিত্যক্ত একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ফের দুইটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ দুটি একজন নারী ও একটি ছেলে শিশুর হতে পারে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লায় অবস্থিত পরিত্যক্ত ‘সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার’-এর ভেতর থেকে মরদেহ দুটির সন্ধান পাওয়া যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। মরদেহ দুটি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রসাব করার উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ভেতরে পোড়া অবস্থায় দুইটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ওই শিক্ষার্থী দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং কমিউনিটি সেন্টারটি ঘিরে রাখে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন। পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি কতদিন আগে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে—তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে মরদেহ দুটি পোড়া থাকায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
এই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারটি আগেও একাধিকবার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় এসেছে। এর আগে গত বছরের ২৯ আগস্ট দিবাগত রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
এরপর গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) বছর বয়সী এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায়ও নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সর্বশেষ, ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লায় অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা-পুলিশ। ওই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
একই স্থান থেকে বারবার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, পরিত্যক্ত এই ভবনটি দ্রুত ভেঙে ফেলা অথবা স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাসহ আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।