ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মোবাইল কোর্টে বাধা? ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের বাগবিতণ্ডা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৫১ পিএম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ॥

‘আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করলে আগে আমাকে বলতে হবে।’—ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এভাবেই বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। তিনি একই সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের এই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম চলাকালে চেয়ারম্যান উচ্চস্বরে প্রশ্ন তুলছেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে পারভেজ ও বকুল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। সেখানে উপস্থিত জনতার সামনেই তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কী করছেন এইটা? বলেন আমাকে?’ জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। মোবাইল কোর্ট আগে শেষ হোক।’

এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ‘স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করবেন—আগে আমাকে আগে বলতে হবে।’ ম্যাজিস্ট্রেট তখন প্রশ্ন করেন, ‘কে বলেছে এটা? কোন আইনে আছে?’ উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং এর সমালোচনা করছেন। আবার কেউ কেউ চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি এই এলাকার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ঘটনাটি কী হচ্ছে, তা জানতেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে কিছুই জানাতে রাজি হননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে চেয়ারম্যান তো দূরের কথা, একজন মানুষ হিসেবেও সম্মান করেননি।’

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের নামে আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘সবকিছুরই নিয়মনীতি আছে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমি কি ঘটনাটি জানতে পারি না?’

এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার পর থেকে ওই বাগবিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর