মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পশু জবাইয়ের জন্য এখনও কোনো স্বাস্থ্যসম্মত কিলখানা নেই। এর ফলে মাংস বিক্রেতারা যত্রতত্র পশু জবাই করছেন, এবং রক্ত ও ময়লা ফেলে মানুষ ও পরিবেশের জন্য বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই মাঝে মাঝে অসুস্থ পশুও জবাই করা হয়।
প্রথম শ্রেণীর গোয়ালন্দ পৌর শহরের জামতলা বাজারে প্রতিদিন অন্তত ৪টি গরু জবাই করা হয়। উৎসবের সময় এই সংখ্যা আরও বেশি হয়ে যায়। বাজারে স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের ক্রেতারা মাংস কিনতে আসেন। তবে স্বাস্থ্যসম্মত কিলখানা না থাকায় মাংস বিক্রেতারা রাতের অন্ধকারে দোকানের সামনের জায়গায় পশু জবাই করেন এবং রক্ত ও বর্জ্য ফেলে যান। এতে জনসাধারণ দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, কিলখানা থাকলে সেখানে পশু হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ও পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতেন এবং একজন আলেম পশু জবাই করতেন। এতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে এখানে এর কোনো ব্যবস্থা নেই। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতেও একটি অসুস্থ পশু জবাই করা হয়েছে বলে ফেসবুকে তথ্য পাওয়া গেছে।
উপজেলার অন্যান্য হাটবাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ৮ জানুয়ারি রাতে চর দৌলতদিয়া হামেদ মৃধার হাটে অসুস্থ গরু জবাই করার খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান, অতিরিক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ গোলাম সরওয়ার খান ও থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালান। তারা কসাইরা নামের মাংস ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এক মন মাংস জব্দ করে। পরে পরীক্ষা শেষে মাংস ভক্ষণ অনুপযোগী ঘোষণা করে মাটিতে পুতে দেওয়া হয়।
জামতলা বাজারের মাংস বিক্রেতা বাদশা শেখ বলেন, আমরা বহু বছর ধরে সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করি। ভোরে মাংস বিক্রি শুরু হয়, তাই ভোরের আগেই জবাই করতে হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলে আরও ভালো হতো। অপর বিক্রেতা আপতার ও জীবন বেপারী জানান, তারা ঝুঁকিপূর্ণ মাংস বাজারে ফেলেন না এবং রক্ত-অবর্জ্য নদী বা খালে ফেলে দেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক সাথী দাস বলেন, মাংসের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে তদারকি করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে এবং দ্রুত কিলখানা নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।