নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় জেল পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী আহমেদুল কবির অপু (৪২) দুর্বৃত্তদের হাতে কুপিয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি স’মিল থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আহমেদুল কবির অপু মরজাল এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, অপুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন এবং আরেকটি মামলায় তিনি পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া দুটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসে নরসিংদী কারাগার থেকে তিনি পলাতক হন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় অপু বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে একটি স’মিলে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মুখমণ্ডল শনাক্তের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তি আহমেদুল কবির অপু বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
সরেজমিনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময় অপুকে ওই স’মিলে নিয়ে গিয়ে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহতের মাথার বাঁ পাশে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় স’মিলের পাশের হিন্দুপাড়ায় কীর্তন চলছিল, ফলে আশপাশে লোকজনের চলাচল ছিল।
পুলিশ মরদেহের পাশ থেকে একটি রক্তাক্ত ছুরি এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের বোন মিতা জানান, মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মরদেহের ছবি দেখে তিনি তাঁর ভাইকে শনাক্ত করেন। তবে অপুর সঙ্গে কারও পূর্বশত্রুতা বা সাম্প্রতিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিহতের মাথায় একাধিক কোপের আঘাত রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহত অপুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। কারাগার থেকে পলাতক থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, অপরাধ জগতের দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে বলে জানান রায়পুরা থানার ওসি।
আকাশজমিন / আরআর