ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই, দাভোসে স্পষ্ট বার্তা ট্রাম্পের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:০৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল, কিন্তু ডেনমার্ক সেটির যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের লাগবেই। ডেনমার্কের মানুষ ভালো, কিন্তু তারা এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম নয়। এমনকি তাদের নেতারাও সেখানে খুব একটা যান না।’ ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে গেলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক ও কৌশলগত তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ন্যাটো গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডেনমার্ককে সতর্ক করে আসছে। এ বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আলোচনা করার পরিকল্পনার কথাও জানান ট্রাম্প। এ ছাড়া নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড এখন অপরিহার্য। এই বাস্তবতা থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই, এবং এ বিষয়ে সবাই একমত।’

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে তাকে মার্কিন পতাকার পটভূমিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা যায়। পোস্টটির মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, ২০২৬ সালের কোনো এক সময়ে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘নো কমেন্ট’। তবে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

এ ছাড়া ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে স্বল্পসংখ্যক মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই অঞ্চল বিক্রির বা হস্তান্তরের যেকোনো প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের অবস্থান, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর