অনলাইন রিপোর্টার
ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ আগ্রাসনের পর প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসলো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক যুদ্ধ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও প্রত্যাশা সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের মূল ইস্যুগুলোতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন শান্তি চুক্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত।
ইউক্রেন শান্তি চুক্তিতে অংশ নিচ্ছে কারণ তারা সবচেয়ে বেশি শান্তি চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রাখতে চায়। গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ট্রাম্প সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা স্থগিত করেছিলেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছেন, যার ফলে রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার বিরুদ্ধে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা আশা করা যাচ্ছে।
জেলেনস্কি বৈঠককে একটি ‘পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে তা ইতিবাচক হিসেবে নয়। তিনি বলেন, শান্তির জন্য ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও শেষ ১০ ভাগ দুষ্কর। মূল বিরোধ দনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ড নিয়ে। রাশিয়া চাইছে পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশ তাদের হাতে হস্তান্তর করা হোক, যা ইউক্রেন প্রত্যাখ্যান করেছে।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, যদি রাশিয়া আবারো হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেবে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা জরুরি। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে, তবে বিস্তারিত অজানা। রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্পের নিশ্চয়তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সংশয় আছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের লক্ষ্য বদলায়নি; তিনি শান্তি চায়নি বলেই ক্রেমলিন ঘোষণা দিয়েছে যে, আলোচনায় সমাধান না হলে যুদ্ধক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবে। একই সাথে, রাশিয়া দনবাস অঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি এখনও খুবই কঠিন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও মার্কিন দূতের মধ্যে চার ঘণ্টার আলোচনায় ভূমি-সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। ক্রেমলিনের প্রতিনিধি ইউরি উশাকভ ও দিমিত্রিভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার অংশগ্রহণ করেন। নতুন মুখ হিসেবে জশ গ্রুয়েনবাউম ছিলেন। ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ গাজা পুনর্গঠনের জন্য তৈরি হলেও এখন তা বিশ্বব্যাপী সংঘাত মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে ব্যাপক সংঘাত বন্ধের চেষ্টা হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বর্ষে পা দেবে। জেলেনস্কি বলেন, এটি যুদ্ধ বন্ধের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আকাশজমিন / আরআর