ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ভোমরা বন্দরে দুই দিনে ১ হাজার ৪৪৭ টন চাল আমদানি


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:০৩ পিএম

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘ এক মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর কার্যকর হচ্ছে। বন্দরের আমদানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

গত বুধবার থেকে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই দিনে মোট ৩৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৪৭ মেট্রিক টন চাল দেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর ভোমরা বন্দরে চাল আমদানি হয়েছিল। এই দীর্ঘদিনের বিরতির ফলে স্থানীয় বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কেজি প্রতি চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে চাল ক্রয়ের সময়সীমা এগিয়ে আনার কারণে মিলাররা সরকারি গুদামে সরবরাহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে খোলা বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং দামের ওপর প্রভাব পড়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমদানি নিয়মিতভাবে বাড়লে বাজারে চালের দাম আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুসা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনায় দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৮ জানুয়ারি দেশের ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারকরা এলসি খুলে চাল আমদানি শুরু করেন।

প্রথম দিন ৫টি ট্রাকে ৩৬৭ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করে। পরের দিন আরও ৩১টি ট্রাকে মোট ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল এসেছে। এই আমদানিতে অংশ নিয়েছে মেসার্স ইসমাইল হোসেন সরদার অ্যালুমিনিয়াম স্টোর, হানেফ এন্টারপ্রাইজ, ইসলামপুর রাইচ মিল, রেজাউল অ্যান্ড সন্স এবং জাহাঙ্গীর হোসেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নিয়মিত ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম আরও সহনীয় হবে। তারা আশাবাদী, চলতি মাসের মধ্যেই বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বন্দর দিয়ে নিয়মিত আমদানি শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি কিছুটা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা ও নিয়মিত আমদানি বজায় থাকলে চালের বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

ভোমরা স্থলবন্দর বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনায় কার্যক্রম চলমান থাকায় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর