সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বেতনা নদীসহ সাতক্ষীরা জেলার নদ-নদী ও সংযোগ খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অববাহিকায় বসবাসকারী জনগণের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন বক্তা। পাশাপাশি নদী সুরক্ষায় একটি স্বাধীন নদী কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরিতে “বেতনা নদী সুরক্ষায় নাগরিক উদ্যোগ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বদেশ, সমমনা নেটওয়ার্কভুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও এএলআরডি, ঢাকার সহযোগিতা ছিল।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাগরিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনুর রসুল। তিনি বেতনা নদীসহ সাতক্ষীরার প্রধান নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নদী দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছেন। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ টিকিয়ে রাখতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন।
মো. আমিনুর রসুল বলেন, “নদী যদি তার স্বাভাবিক চরিত্র ও অধিকার নিয়ে প্রবাহিত না হয়, তবে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট সংকট নদীর জীবনীশক্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।” তিনি নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নদী শুনানি ও নদী আদালত কার্যকর করার আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নদী রক্ষার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্তির দাবিও তোলেন।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আশিকুর রহমান, উন্নয়নকর্মী আশেক-ই এলাহি, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, বাপা সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও অধ্যাপক মোজাম্মেল হকসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, নদীকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থা, কৃষি, বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও সভ্যতা রক্ষায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অপরিহার্য। তারা উল্লেখ করেন, বেতনা নদীসহ বিভিন্ন নদীর নিয়ন্ত্রণে স্থাপিত বহু স্লুইসগেট বর্তমানে অকার্যকর, যা অপসারণ বা আধুনিকায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ বন্ধ করা এবং সকল নদী ও সংযোগ খাল উন্মুক্ত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও বক্তব্য দেন আলীনুর খান বাবুল, আব্দুস সামাদ, মফিজুর রহমান, কাওসার আলী, মৃণাল সরকার, জ্যোৎস্না দত্ত, মধুসূদন মণ্ডল, রুবেল হাসান, লুইস রানা গাইন ও এম. কামরুজ্জামান। সিডো’র পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস লিখিত আলোচনাপত্র পাঠ করেন।
সুপারিশমালা:
আধুনিক পদ্ধতিতে (ড্রেজিং) নিয়মিত নদী খনন এবং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পুনঃখনন নিশ্চিত করা
স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নদী দখলমুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ
পানিপ্রবাহের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
নদী ও খালে মিঠাপানির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা
স্থানীয় জনগণ, এনজিও, ইউনিয়ন পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে “বেতনা নদী সংরক্ষণ কমিটি” গঠন
নদীতীরের বাঁধ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ
নদী রক্ষা আইন ২০১৩ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বেতনা নদীর জলপ্রবাহ ও ভৌত গঠন পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা পরিচালনা
আকাশজমিন / আরআর