পুরনো সেই উন্মাদনা এবং সানি দেওলের চেনা মেজাজে পর্দায় ফিরে এসেছে ‘বর্ডার ২’। মুক্তির শুরুতেই এই ছবি বক্স অফিসে কার্যত সুনামি সৃষ্টি করেছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেতে পেতে মাত্র তিন দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে ১১৫ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে সিনেমাটি।
গত শুক্রবার মুক্তির দিনেই ছবিটি ৩৫ কোটির ব্যবসা করে প্রথম বড় ধামাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল। শনিবার আয় আরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। রবিবারের ছুটির দিনে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দর্শকের ভিড় ছিল অতিপ্রাচুর্যপূর্ণ। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার একদিনে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ কোটি রূপি।
এভাবে তিন দিনের মধ্যে ভারতীয় বক্স অফিসে ‘বর্ডার ২’-এর মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১৫ কোটির বেশি। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গদর’ চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সানি দেওল আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি ‘মাস-এন্টারটেইনার’ হিসেবে আজও অসাধারণ। তবে এবারের ছবিতে একা নন; বরুণ ধাওয়ান ও দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের উপস্থিতি ছবির উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।
ছবিটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধকালীন ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে তৈরি। সেই সময় ভারতের সমর্থনে বাংলাদেশকে সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, এবং পাকিস্তান ভারতের কিছু প্রদেশে হামলা চালিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে উঠেছে।
ছবিতে সানি দেওলকে দেখা গেছে এক অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের ভূমিকায়। তরুণ ব্রিগেডে যুক্ত হয়েছেন বরুণ ধাওয়ান, দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ ও আহান শেট্টি। চলতি সপ্তাহে বড় কোনো সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় ‘বর্ডার ২’ বক্স অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে।
২০২৬ সালের প্রথম ব্লকবাস্টার হিসেবে ইতোমধ্যে এই ছবি নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছবির এই দাপট অব্যাহত থাকলে ভারতীয় সিনেমার শীর্ষ রেকর্ডও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সানি দেওলের পারফরম্যান্স, উত্তেজনাপূর্ণ গল্প এবং আকর্ষণীয় প্রযোজনা দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বক্স অফিসে এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সিনেমার মুক্তি ভালো সময় নির্বাচিত হওয়া, সানি দেওলের জনপ্রিয়তা, তরুণ অভিনেতাদের উপস্থিতি, এবং গল্পের সংবেদনশীলতা—সবই মিলিয়ে ছবিটিকে ব্যবসায়িকভাবে সফল করেছে। দর্শকরা বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহে টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছেন।
বিশ্লেষকরা আরও জানিয়েছেন, ভারতের সাম্প্রতিক ছবি ব্যবসার ধারা অনুযায়ী, ‘বর্ডার ২’ প্রথম সপ্তাহেই রেকর্ড গড়তে সক্ষম। এতে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এছাড়া ছবির আন্তর্জাতিক মুক্তি এবং বিদেশি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সানি দেওলের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের সমন্বয় ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যকে নিশ্চিত করেছে।
আকাশজমিন / আরআর