ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী রুট নিয়ে অসন্তোষ সত্ত্বেও আজ চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ নেতানিয়াহুর পতনে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ সাজেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: ফের ১২ ঘণ্টার নতুন অবরোধ ঘোষণা যুদ্ধের শেষ পরিণতি আমরাই ঠিক করব: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর বার্তা ৮৬ বছর পর লা লিগায় অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্কবার্তা জারি টিল অস্ত্রোপচার কাটিয়ে তিন দেশ সফরে পোপ লিও এক রুট এক কোম্পানি: ঢাকায় ৬ রুটে বাস চলাচল শুরু

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংস্থা থেকে বের হচ্ছে


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বের হতে যাচ্ছে, বিশেষ করে যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত কাজ করে। প্রায় এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সংস্থায় অংশগ্রহণ পর্যালোচনা শুরু করেছিলেন। এরপর দেশটি ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্যাগ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থাকে ‘মার্কিন স্বার্থের বিপরীতে’ মনে করছে।

সবচেয়ে পরিচিত সংস্থা হলো জাতিসংঘের জলবায়ু ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) ও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ইউএনএফসিসিসি থেকে পুরোপুরি বের হতে এক বছর সময় নেবে। এই সময়ে দেশটি আলোচনায় পূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তবে ভবিষ্যতের প্রশাসন চাইলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত শুধু সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার উপর প্রভাব ফেলে না, বরং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের বাণিজ্য, নিয়ম ও সরবরাহ শৃঙ্খলাতেও প্রভাব পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপ ও চীন বিভিন্ন নিঃসরণ মান ও কার্বন নীতিমালা ঠিক করে, যা মার্কিন ব্যবসাকে প্রভাবিত করতে পারে।

যদিও অনেক সংস্থা ছাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থায় এখনও সক্রিয় রয়েছে। যেমন: ইউএন এনভার্নমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি), ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এবং ওয়ার্ল্ড মেটোরোলজিক্যাল অরগানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। এই সংস্থাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেশি, কারণ তারা তথ্য ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহ করে। কিছু সংস্থায় থাকায় দেশটি নিজস্ব শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউএনইপির গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তিতে মার্কিন প্রতিনিধি দেশের প্লাস্টিক শিল্প রক্ষা করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি হলো, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব রাখতে পারে সেখানে থাকা এবং যেখানে প্রভাব নেই বা দেশের নীতির সঙ্গে বিরোধ আছে সেখানে বের হওয়া। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির ক্ষেত্রে এই নীতি লক্ষ্য করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্থা ছাড়লেও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তগুলো মার্কিন ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ীদের এখন বিদেশি সরকার ও শিল্প সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সক্রিয়, সেই ফোরামে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে আগেভাগে সমন্বয় করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতি ও বাণিজ্যিক প্রবণতায় পরিবর্তন আসতে পারে। দেশগুলোকে নতুনভাবে সমন্বয়, তথ্য আদানপ্রদানে সক্ষম হতে হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও কার্বন শুল্ক, নিঃসরণ নীতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতের প্রশাসন পরিবর্তন করে আবার এ সংস্থায় অংশগ্রহণ করে, তাহলে দেশের আন্তর্জাতিক প্রভাব ও পরিবেশ সংক্রান্ত অংশগ্রহণ পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর