সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 158
রেজাউল করিম ঝন্টুঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা ১ হাজার ৪৮ জন বন্দির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১২ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিশেষ উদ্যোগ নিলেও সিরাজগঞ্জ কারাগারে এর খুব সীমিত প্রভাব দেখা গেছে। ফলে কারাগারটিতে থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ বন্দিই এই ঐতিহাসিক সুযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে কারাবন্দিদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ১২ জন বন্দি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন, যা মোট বন্দির মাত্র ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। নিবন্ধিত বন্দিদের মধ্যে ১১ জন সিরাজগঞ্জ জেলার ভোটার এবং একজন টাঙ্গাইল জেলার ভোটার।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারাবন্দিদের ভোটাধিকার থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন এই সুযোগ কার্যকর হয়নি। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি কারাবন্দিদের জন্যও বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করে নির্বাচন কমিশন। তবে আইন অনুযায়ী কেবল বিচারাধীন বা সাজা হয়নি—এমন বন্দিরাই এই সুযোগ পাবেন। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের ভোটাধিকার বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে কারাগারের ভেতরে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। রোল কলের সময় পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং বন্দিদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বন্দিদের সাড়া ছিল খুবই কম।
বন্দিদের কম নিবন্ধনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করা হচ্ছে। অনেক বন্দির এনআইডি কারাগারে না থাকা, তথ্য হালনাগাদ না থাকা কিংবা ভোটার তথ্যের অসামঞ্জস্যের কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অনেক বন্দির ধারণা ছিল, নির্বাচনের আগেই তারা জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। সে কারণে কারাগারের ভেতরে থেকে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের প্রয়োজন অনুভব করেননি তারা।
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার দিলীপ কুমার রায় বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে বন্দিদের পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ সম্পর্কে জানিয়েছি। তারপরও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২ জন নিবন্ধন করেছেন।”
জেল সুপার এএসএম কামরুল হুদা বলেন, “কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বন্দিদের সর্বোচ্চভাবে উৎসাহিত করেছি। কিন্তু এনআইডি জটিলতা এবং দ্রুত জামিন পাওয়ার প্রত্যাশার কারণে অনেকেই নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাননি। সারাদেশের চিত্রও প্রায় একই রকম।”
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা প্রায় ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৬ হাজার ২৪০ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওইদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো বন্দি নিবন্ধনের পর জামিনে মুক্তি পেলে তাকে কারাগারের নির্ধারিত বুথেই ভোট প্রদান করতে হবে। কমিশনের আশা, ভবিষ্যতে আইনগত ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের হার আরও বাড়বে।
আকাশজমিন / আরআর