ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দেশে সমর্থক নেই বলেই ভারতে আ.লীগের সংবাদ সম্মেলন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

দেশে রাজনৈতিকভাবে জনসমর্থন হারানোর কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের দিল্লিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা বক্তব্য দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এতে নির্বাচন ভণ্ডুল হওয়ার বা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই। জনগণ এখন সচেতন, তারা দেশের বাস্তবতা বোঝে এবং বিদেশে বসে দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্ত হবে না।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তারা আইনের মুখোমুখি না হয়ে পালিয়ে আছেন। রাষ্ট্রের স্বার্থেই তাদের দেশে ফিরে এসে আইনি প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়া উচিত।

কারাগার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গার সংকট রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে শিগগিরই নতুন কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করে সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কারাগার কোনো প্রতিশোধের জায়গা নয়। এটি সংশোধনের জায়গা। বন্দিদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কারা বিভাগের সদস্যদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।

কারা বিভাগের সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ কিংবা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না—সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। কারা বিভাগের কোনো সদস্য কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়; তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত।

দুর্নীতি সম্পর্কে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয় এবং জনগণের আস্থা ভেঙে দেয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কারা বিভাগসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে নবীন মহিলা কারারক্ষীদের শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সদস্যরা ভবিষ্যতে কারা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর