বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে সেই নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। এ দেশের মানুষ এমন নির্বাচন মেনে নেবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, তবে তা দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে। জনগণ পুনরায় তাদের প্রতিরোধ করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই সেই শক্তির পতন ঘটাবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন অত্যন্ত ঘনিয়ে এসেছে এবং এই সময়ে একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
ডা. তাহের বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাজনৈতিক দল যেখানে নারী সদস্যের হার ৪৩ শতাংশ, যা সংখ্যায় দেড় কোটির কম নয়। আরপিও অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান থাকলেও একমাত্র জামায়াতই এই শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, একটি মহল অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের গুরুত্ব কম—এমন ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অথচ যাদের দলে নারী সদস্য বেশি, সেখানে গুরুত্ব কম বলা হলে যাদের দলে নারী কম, তাদের অবস্থান কী হবে—সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন। দলীয় পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিনি বলেন, সারাদেশে নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ জামায়াতকে ভোট দেবেন বলে তাদের বিশ্বাস। কারণ নারীরা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা বা উগ্রতা পছন্দ করেন না।
নিজ নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রাম প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, তার মূল্যায়ন অনুযায়ী তিনি পুরুষদের তুলনায় নারী ভোট বেশি পাবেন ইনশাআল্লাহ। নারীরা শুধু সংখ্যায় এগিয়ে নয়, বরং তারাই সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের সক্রিয়তা প্রতিপক্ষরা টের পেয়েছে। এ কারণে সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে নারীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। একটি আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে হামলা শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. তাহের বলেন, নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা—তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে যারা নারী অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলে থাকেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা করছেন। কোথাও বক্তৃতা দিলে জিহ্বা কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জামায়াতকে ভোট দিলে হাত কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে দেশ-বিদেশে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সরকারেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে। জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করতে হবে।
ডা. তাহের আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জামায়াতের নারী কর্মীরা আহত হয়েছেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। অনেক এলাকায় ভোটকেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণের মহড়া চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, জনপ্রিয়তার বিচারে যারা পিছিয়ে আছে, তারাই সন্ত্রাসের পথ বেছে নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
আকাশজমিন / আরআর