ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী রুট নিয়ে অসন্তোষ সত্ত্বেও আজ চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ নেতানিয়াহুর পতনে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ সাজেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: ফের ১২ ঘণ্টার নতুন অবরোধ ঘোষণা যুদ্ধের শেষ পরিণতি আমরাই ঠিক করব: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর বার্তা ৮৬ বছর পর লা লিগায় অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ, সমুদ্রবন্দরে সতর্কবার্তা জারি টিল অস্ত্রোপচার কাটিয়ে তিন দেশ সফরে পোপ লিও এক রুট এক কোম্পানি: ঢাকায় ৬ রুটে বাস চলাচল শুরু

নির্বাচন এলেই কদর বাড়ে সৈয়দপুরের বিহারি ভোটারদের


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩৭ পিএম

নীলফামারী সংবাদদাতা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসনে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। প্রতিবারের মতো এবারও অবাঙালি (বিহারি) ভোটারদের গুরুত্ব নজরকাড়া।

প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা-সমাবেশে বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন, কুশল বিনিময়ও সেই ভাষাতেই করছেন। নির্বাচনের আগে অবাঙালিরা স্বাভাবিকভাবেই কদর বাড়ে, যা প্রার্থীদের নজর এড়িয়ে যায় না।

জানা গেছে, সৈয়দপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা অবাঙালিদের একটি অংশ ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে আসে। স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়, তারা ভোটার হন ২০০৮ সালে। বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রায় অর্ধেক ভোটার, প্রায় ৬০ হাজার, এই অবাঙালি জনগোষ্ঠী। ফলে তাদের ভোট জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হিসেবে কাজ করে।

অবাঙালি ভোটাররা দীর্ঘসময় ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয় না। এবারের নির্বাচনে যারা সত্যিই ক্যাম্পের উন্নয়নে কাজ করবেন, তাদেরকেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ভোটাররা।

হাতিখানা ক্যাম্পের মোলায়েম হক বলেন, “ভোট এসেছে বলে বিভিন্ন প্রার্থী প্রতিদিন ক্যাম্পে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও সাহায্য পাইনি।”

আরেক বাসিন্দা মাবুল হোসেন বলেন, “ভোট দিতে যাবো, তবে ভোট দেব সেই প্রার্থীকে, যিনি আমাদের জন্য ভালো কিছু করবেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।”

হানিফুল ইসলাম জানান, “প্রতিবছর ভোট দেই কিন্তু আশা অনুযায়ী ফল পাই না। এবার আমরা এমন প্রার্থীকে ভোট দেব যিনি সত্যিই উন্নয়ন করবেন।”

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, “ক্যাম্পবাসীরা ভোটাধিকার পেয়েছে। আমরা শিক্ষিত, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ভোটের সময় আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। নাগরিক সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। দেশের উন্নতি হলেও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি।”

ক্যাম্পবাসীরা আশা করছেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উদ্যোগেও মনযোগ দেবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রার্থীর সঠিক মনোযোগ ও কার্যকরী উন্নয়ন কর্মসূচি ছাড়া ভোটের প্রভাব সাময়িক হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর