ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মহারাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত: উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ নিহত ৫


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পুনের বারামাতিতে তার ব্যক্তিগত বিমান অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানে থাকা অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ডিজিসিএ)।

নিহতদের মধ্যে দুইজন পাইলট এবং অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছেন। মহারাষ্ট্রে স্থানীয় পৌরসভা নির্বাচনের আগে চারটি জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য তিনি মুম্বাই থেকে বারামাতি যাচ্ছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিএসআর নামক কোম্পানির পরিচালিত ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের ছোট বিমানটি সকাল ৮টায় মুম্বাই থেকে উড্ডয়ন করেছিল। যাত্রার প্রায় ৪৫ মিনিট পর বারামাতি বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে বিধ্বস্ত বিমান থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং ধ্বংসাবশেষ চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেছেন।

উল্লেখ্য, এই একই মডেলের একটি বিমান ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় ভারতের বিমান নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠেছে।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “শ্রী অজিত পাওয়ার জি ছিলেন তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা একজন জননেতা, যিনি মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তার প্রজ্ঞা এবং দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের প্রতি তার নিষ্ঠা ছিল অতুলনীয়। তার অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। অমিত শাহ ইতিমধ্যেই পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের ভাতিজা। ২০২৩ সালে তিনি এনসিপিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে দলটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে এনডিএ জোটে যোগ দিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি শারদ পাওয়ারের সঙ্গে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পৌর নির্বাচনে দুই পক্ষ মিলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বারামাতি বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে নামার চেষ্টা করছিল। উদ্ধারকর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার কারণে রাজ্যের প্রশাসন এবং স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের শোক ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অজিত পাওয়ার একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, যিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে এনসিপি রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল।

বিমান দুর্ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রশাসনিক ত্রুটিগুলোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুনে ও বারামাতি এলাকায় ছোট বিমান পরিচালনায় নিয়মাবলীর আরও কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার প্রভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা পুনে ও বারামাতি এলাকায় পৌঁছেছেন। সংসদ অধিবেশনের জন্য দিল্লিতে থাকা শারদ পাওয়ার এবং সুপ্রিয়া সুলে দ্রুত পুনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

বিমান দুর্ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অকাল শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অজিত পাওয়ারের মৃত্যু রাজ্য রাজনীতিতে শূন্যস্থান তৈরি করবে। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি ও রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি কিভাবে পরিস্থিতি সামলাবে তা লক্ষ্য করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর