বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশা মানেই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, বিলাসবহুল জীবন আর দুহাতে অর্থ ব্যয়ের গল্প। তার জীবনযাপনে দামি পোশাক, জুতো কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই বিলাসিতাই যেন হয়ে উঠেছে আক্ষেপের কারণ। কেবল মুহূর্তের উত্তেজনা আর আবেগের বশে সাড়ে ১২ কোটি টাকা খরচ করে একটি গাড়ি কিনে এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েই হতাশ এই তারকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাদশা নিজেই এই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাসখানেক আগে হঠাৎ করেই ‘রোলস রয়েস কুলিনান সিরিজ ২’ মডেলের একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কোনো দীর্ঘ পরিকল্পনা কিংবা প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই একপ্রকার হুট করেই শোরুমে গিয়ে গাড়িটি কিনে ফেলেন তিনি। এই গাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
এই গাড়ি কেনার মাধ্যমে বাদশা এমন এক অভিজাত তালিকায় নিজের নাম লেখান, যেখানে রয়েছেন মুকেশ আম্বানি, শাহরুখ খান ও অজয় দেবগনের মতো অতি-ধনী ও প্রভাবশালী তারকারা। বিষয়টি যে তার জন্য এক ধরনের গর্বের মুহূর্ত ছিল, তা লুকাননি তিনি। গাড়ি হাতে পাওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট নিজেকে রাজা মনে হয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন এই র্যাপার।
তবে সেই উত্তেজনা স্থায়ী হয়নি খুব বেশি সময়। বাদশা বলেন, গাড়ির মালিক হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই সেই আনন্দ যেন মিলিয়ে যেতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই মাথায় আসে নানা প্রশ্ন—এত টাকা খরচ করে আসলে তিনি কী পেলেন? জীবনে পরবর্তী লক্ষ্যই বা কী হতে পারে?
বাদশার ভাষায়, ‘ওটা ছিল একেবারেই একটা হঠকারী সিদ্ধান্ত। মনে হলো আজই কিনতে হবে, তাই আর কিছু না ভেবেই বেরিয়ে পড়লাম। কেনার পর প্রথম কয়েক মিনিট ভীষণ ভালো লাগছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই সেই অনুভূতিটা ফিকে হয়ে গেল।’
সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের পর তিনি উপলব্ধি করেন, সবচেয়ে দামি জিনিসটি হাতে চলে এলে পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই শূন্যতা থেকেই মূলত তার আক্ষেপের শুরু। তিনি বলেন, ‘যখন আপনার কাছে সবকিছু থাকে, তখন নতুন করে উত্তেজিত হওয়ার মতো কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।’
বিলাসবহুল জিনিসের প্রতি দুর্বলতা যে তার পুরোনো অভ্যাস, সেটাও স্বীকার করেছেন বাদশা। দামি পোশাক, জুতো কিংবা অ্যাকসেসরিজ দেখলেই অনেক সময় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। তবে এত বড় অঙ্কের একটি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত যে পুরোপুরি আবেগতাড়িত ছিল, সেটি এখন অনায়াসেই মেনে নিচ্ছেন এই তারকা।
বাদশার এই স্বীকারোক্তি তার ভক্তদের কাছেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই অভিজ্ঞতা হয়তো তাকে ভবিষ্যতে আরও সংযত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। বিলাসিতা থাকলেও, তার সঙ্গে বাস্তবতার ভারসাম্য রক্ষা করাই যে সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সেটিই যেন বুঝিয়ে দিলেন বলিউডের ‘ব্যাড বয়’।
আকাশজমিন / আরআর