ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ভাঙ্গায় সিজারিয়ান অপারেশনের পর সদ্য প্রসূতি শারমিন আক্তার সন্তানসহ তিন সন্তান রেখে চিরবিদায় নেন। মৃত্যুতে হতদরিদ্র পরিবারটি মর্মাহত হয়েছে। স্বামী ভ্যানচালক আরিফ শেখের চোখের অশ্রু সবাইকে কাঁদাচ্ছে। নবজাতক শিশু ও দুই মেয়ে মায়ের পরম ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী জানান, মঙ্গলবার প্রসবজনিত জটিলতায় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহত মায়ের বড় মেয়ে আরিফার বয়স ৫ বছর, ছোট মেয়ে ফাতেমার বয়স ৩ বছর এবং নবজাতক ছেলেটির বয়স মাত্র দুই দিন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. গোপাল দেব বলেন, “রোগীটি আগে থেকেই মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন। অপারেশনের আগে স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও মৃত্যু হয়েছে।”
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, “গত এক বছরে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৯৯টি নরমাল ডেলিভারি ও ৫৬টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে অপারেশন করা হয়। সুস্থ নবজাতকের জন্মের পর রোগীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।”
শারমিন আক্তারের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
আকাশজমিন / আরআর